Skip to content
Default screen resolution  Wide screen resolution  Increase font size  Decrease font size  Default font size 
অবস্থান:    প্রথম পাতা arrow জীয়ন সংবাদ arrow এইচ আই ভি এবং এইড্‌স কি?
এইচ আই ভি এবং এইড্‌স কি? মুদ্রণ ইমেল
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা যে বীজানু মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাকে সংক্ষেপে বলা হয় এইচ আই ভি। এর মানে হল শরীরে রোগ জীবানু প্রতিরোধের ক্ষমতা কম। এইচ আই ভি শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে খারাপ করে দেয় এবং এর ফলে শরীরে কতকগুলি সংক্রামক রোগ সহজেই প্রবেশ করতে পারে। এইচ আই ভি থাকলেই যে এইড্‌স হবে এমন কোন কথা নেই। এইচ আই ভির দ্বারা শারিরীক প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী খারাপ হয়ে যাওয়ার ফলে একজন ব্যক্তির আর রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকবে না, এই অবস্থায় পৌঁছাতে অনেক সময় লাগতে পারে। এই সময়ে একজন ব্যক্তি যার এইচ আই ভি আছে, তিনি এই জীবানু নিয়েও এইড্‌স হওয়ার আগে, বহু বত্সর সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন।

এইড্‌স কি?

একোয়ার্ড ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোমের সংক্ষেপ হল এইড্‌স। এইডস হচ্ছে কতকগুলি অসাধারন জীবানুর এবং ক্যান্সারের সংগ্রহ এবং যে সকল ব্যক্তিদের এইচ আই ভি আছে তার এইড্‌স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একজন ব্যক্তি যার এইড্‌স আছে তিনি যদি উপরোক্ত কোন বিশেষ অসুখে ভোগেন তাহলে বলা হয় যে তার এইড্‌স হয়েছে। অনেকগুলি জীবানু, যে গুলি এই রোগের সৃষ্টি করে, সেগুলি একজন সাধারন ব্যক্তি যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল, তার পক্ষে বিশেষ ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কোন ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা খুব খারাপ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে, তাহলে এই জীবানু গুলি তার শরীরে ভয়ানক রোগের সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে মৃত্যুও হতে পারে।

কিভাবে একজন ব্যক্তির মধ্যে এইচ আই ভি সংক্রমন হতে পারে?

চারটি প্রধানভাবে এইচ আই ভি একজন ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরিরে যেতে পারে।

* একজন ব্যক্তি যার এইচ আই ভি আছে. তার সঙ্গে স্ত্রী যোনী অথবা মলাদ্বারের ভিতর দিয়ে কনডোম ব্যবহার না করে যৌন সঙ্গম করলে।
* যে ব্যক্তির এই সংক্রমক রোগ আছে তার ব্যবহার করা ইনজেকশানের জিনিষপত্র, যেটাতে সংক্রামক রক্ত লেগে আছে, সেটা ব্যবহার করলে।
* যে মহিলার এইচ আই ভি আছে, তার সন্তানের এটা হতে পারে, যখন তিনি সন্তান সম্ভবা তখন, সন্তানের জন্মের সময় অথবা সন্তানের জন্মের পর বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে তার থেকে এই রোগ সন্তানের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে,
* ইনজেকশন দেওয়ার ফলে অথবা কোন সংক্রামক ব্যক্তির রক্ত অন্য কোন ব্যক্তিকে দেওয়ার ফলে।
*

প্রতিদিনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপনার এইচ আই ভি হতে পারে না। যেমন:

* সামাজিক চুমু দেওয়া, স্পর্শ করা, জড়িয়ে ধরা, হাত মেলানো।
* একই সুইমিং পুল ব্যবহার করা, একই পায়খানা, থালা-বাসন, হাতা-চামচ, ব্যবহার করা অথবা
* যে ব্যক্তির “এইচ আই ভি” আছে তার রান্না করা খাবার খাওয়া।
* কাশি, হাঁচি, বা চোখের জল, পোকা-মাকড় অথবা পশুর কামড়ের দ্বারা।

যৌন সঙ্গম সম্বন্ধে?

আপনি যদি, যে ব্যক্তিরযৌন সংক্রামক রোগ আছে, তার সঙ্গে কনডোম ব্যবহার না করে, স্ত্রী যোনী অথবা মলাদ্বার দ্বারা যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে আপনার এইচ আইভি এবং অন্যান্য যৌন সংক্রামক রোগ হতে পারে। যদি আপনি যৌন সঙ্গম করে থাকেন, তাহলে কনডোম ব্যবহার করুন। কনডোম এইচ আই ভির বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে পারে। কনডোম অন্যান্য যৌন সংক্রামক রোগগুলি এবং সন্তান না চাইলে, সেগুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কাজ করে।

ঔষধ গুলি সম্বন্ধে?

আপনি যদি ইনজেকশনের দ্বারা ড্রাগ নিয়ে থাকেন এবং সেই ইনজেকশনের সূঁই অন্য ব্যক্তিরাও ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আপনি এইচ আই ভি এবং অন্যান্য রোগ যেগুলি রক্ত দ্বারা সংক্রামিত হয়, যেমন হেপাটাইটিস্ ‘সি’, এইগুলির দ্বারা সংক্রামিত হতে পারেন। আপনি যদি ইনজেকশন দ্বারা ড্রাগ নিয়ে থাকেন, তাহলে প্রত্যেকবার ইনজেকশন নেওয়ার সময় নূতন সূঁই ব্যবহার করুন এবং কখনও অন্য কারো ব্যবহৃত সূঁই ব্যবহার করবেন না বা আপনার সূঁই অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেবেন না।

বাচ্চা হওয়া সম্বন্ধে?

আপনার যদি এইচ আইভি থাকে এবং আপনি সন্তান সম্ভবা, তাহলে বাচ্চা হওয়ার আগে, প্রসবের সময়ে এবং বাচ্চার জন্মের পরের যথাযথ যত্ন নেওয়ার দ্বারা আপনার বাচ্চার এইচ আই ভি দ্বারা সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা শতকরা ২০ ভাগ থেকে শতকরা এক ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এইচ আই ভি সংক্রামনের ঝুঁকি বা সম্ভাবনা কমানোর জন্য আপনি নিম্নলিখিতগুলি করতে পারেন:

* গর্ভ ধারন অবস্থায় চিকিত্সার সময়ে এইচ আই ভি প্রতিরোধকারী ঔষধগুলি ব্যবহার করুন।
* স্বাভাবিকভাবে বাচ্চার জন্মের জন্য অপেক্ষা না করে সিজারিয়ান অপারেশনের দ্বারা বাচ্চার জন্ম দিন।
* যদি সম্ভব হয় তাহলে বাচ্চাকে বোতলের দুধ খাওয়ান। এটা মনে করা হয় যে সম্ভবত: শতকরা ১০ ভাগ এইচ আই ভি মায়ের থেকে বাচ্চার শরীরে যায়।

রক্ত দেওয়া এবং রক্ত নেওয়া সম্বন্ধে?

ইউ কে তে রক্ত দেওয়া নিরাপদ। রক্ত দেওয়ার যন্ত্রপাতিগুলি জীবানুমুক্ত এবং কেবলমাত্র একবার ব্যবহার করা হয়। সব রক্তগুলি এবং শরীরের যন্ত্রপাতি গুলি,(হার্ট, লিভার ইত্যাদি) যেগুলি অন্য ব্যক্তির শরীরে লাগানো হয় এবং কোষগুলিকে (টিস্যু/tissue) ব্যবহার করার আগে এইচ আই ভি জীবানু আছে কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখা হয়। রক্ত গুলিতে যাতে কোন এইচ আই ভির জীবানু না থাকে, সেজন্য সেগুলিকে তাপের দ্বারা চিকিত্সা করা হয়। এর মানে হল যে ইউকে তে বর্তমানে শরীরে রক্ত দিলে এইচ আই ভি জীবানু দ্বারা সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।

এইচ আই ভির পরীক্ষা কি?

কোন ব্যক্তির এইচ আই ভি আছে কি না সেটা সাধারনত: নির্ণয় করা হয় রক্ত পরীক্ষার দ্বারা। এই পরীক্ষাকে বলা হয় এইচ আই ভি এন্টিবডি বা শরীরের জীবানু নাশক পদার্থের পরীক্ষা অথবা এইচ আই ভির পরীক্ষা। এই ব্যবস্থাতে এটাই পরীক্ষা করে দেখা হয় যে শরীরে যদি এইচ আই ভি থাকে তাহলে শারীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থার দ্বারা যে এন্টিবডি বা শরীরের জীবানু নাশক পদার্থের উত্পাদন হওয়ার কথা, সেটা হয়েছে কি না। যখন একজন ব্যক্তি এইচ আই ভির জীবানু দ্বারা সংক্রামিত হয়ে থাকেন, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এন্টিবডি বা শরীরের জীবানু নাশক পদার্থের উত্পাদন হয়েছে কি না সেটা পরীক্ষায় ধরা পড়তে তিন মাস পর্য্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই তিন মাস সময়কে বলা হয় “জানালার কাল/উইন্ডো পিরিয়ড অথবা সেরোকনভারশন।

যদি পরীক্ষা করে এন্টিবডি বা শরীরের জীবানু নাশক পদার্থ পাওয়া যায়, তাহলে তার মানে হল সেই ব্যক্তির “এইচ আই ভি” আছে। যদি পরীক্ষা করে এই এন্টিবডি বা শরীরের জীবানুনাশক পদার্থ না পাওয়া যায়, তাহলে তার মানে হল যে সেই ব্যক্তির শরীরে এইচ আই ভি নাই। এই পরীক্ষা অবশ্যই তিন মাস জানালার কাল/উইন্ডো পিরিয়ডের পরে করাতে হবে। আপনি যদি এই এইচ আই ভি পরীক্ষা করাবার কথা চিন্তা করছেন আপনি তাহলে সেক্সুয়াল হেল্থ ইনফরমেশন লাইনে যোগাযোগ করতে পারেন (০৮০০ ৫৬৭ ১২৩)। তারা আপনাকে এই পরীক্ষার জন্য কি কি করতে হবে এবং এর জন্য কোন জায়গায় যাওয়া সবচাইতে ভাল সেটাও তারা আপনাকে বলতে পারবে।

এইচ আই ভির কি চিকিত্সা করা যায়?

এন্টি এইচ আই ভি থেরাপি বা এন্টিবডির বিরুদ্ধে চিকিত্সার জন্য যে ঔষধগুলি ব্যবহার করা হয় সেগুলি এইচ আই ভিকে আক্রমন করে। এইচ আই ভির জীবানুগুলি যাতে শরীরের কোষের ভিতর পুর্নগঠিত না হতে পারে, ঔষধগুলিতে সেই কাজ হয়, কিন্তু এই ঔষধগুলি এইচ আই ভির জীবানুকে সম্পূর্নভাবে ধ্বংস করতে পারে না।

এন্টি এইচ আই ভি থেরাপি বা এন্টি এইচ আই ভির বিরুদ্ধে চিকিত্সার জন্য সাধারনত তিনটা বা তার বেশী ঔষধকে একসঙ্গে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এটাকে বলা হয় মিলিত চিকিত্সা/কম্বিনেশন থেরাপি অথবা হাইলি একটিভ এ়ন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি(HAART)/ অত্যন্ত কর্মক্ষম বীজানু বৃদ্ধি প্রতিরোধকারী চিকিত্সা। ১৯৯৬ সালে এইভাবে এইচ আই ভির চিকিত্সা আরম্ভ হয় এবং তখন থেকে দেখা গেছে যে এইচ আই ভি কে সংযত রাখতে এই চিকিত্সা খুবই উপকারী এবং ফলে বহু ব্যক্তিরই এইচ আই ভি এইড্‌সে পরিণত হতে দেরী হয়, তবে সকলের নয়।

এই চিকিত্সা বহু ব্যক্তিকেই সাহায্য করছে, তবে শরীরের উপরে এর পরোক্ষ প্রতিক্রিয়া পড়ে এবং কখনও কখনও এই প্রতিক্রিয়াগুলি বেশ কঠিন হয়। এর ফলে এই চিকিত্সা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং ঔষধ খাওয়া সম্ভব হয় না। তাদের জন্য তখন বেশ জঠিল চিকিত্সার পথ নিতে হয়। পিলগুলি খেতে না পারলে চিকিত্সা কার্যকরী হয় না। এ ছাড়াও যত বেশীদিন ধরে এই ঔষধগুলি খাওয়া হয়, ততই তাদের কার্যকরীতা কমতে থাকে। যখন ঔষধ আর এইচ আই ভি জীবানুর বিরুদ্ধে কাজ করে না, তখন এই চিকিত্সার আর কোন কার্যকরীতা থাকে না। যখন একটা মিলিত চিকিত্সা/কম্বিনেশন থেরাপি আর কাজ করে না, তখন অন্য ধরনের মিলিত ঔষধ/কম্বিনেশন ড্রাগ খেতে হয়। এই চিকিত্সা যত বেশী ব্যর্থ হবে, ততই এই মিলিত চিকিত্সা /কম্বিনেশন থেরাপী যেটা কাজ করে, সেটা খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

এইচ আই ভি সংক্রামন প্রতিরোধ করার জন্য কি কোন ঔষধ আছে?

বর্তমানে এইচ আই ভিকে প্রতিরোধ করার জন্য কোন রকম টিকা বা ইনজেকশন নাই এবং এইড্‌স সারানোর জন্যও কোন রকম চিকিত্সা নাই। পরীক্ষামূলক টিকা তৈরী করবার চেষ্টা চলছে কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এই রোগ প্রতিরোধ করার জন্য কোন টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
 
< আগে   পরে >
      
bnr.png