Skip to content
Default screen resolution  Wide screen resolution  Increase font size  Decrease font size  Default font size 
অবস্থান:    প্রথম পাতা arrow জীয়ন সংবাদ arrow তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বয়স্ক শিক্ষা
তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বয়স্ক শিক্ষা মুদ্রণ ইমেল

cover_small.jpgতথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচী পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সরকার৷ এই কর্মসূচীর আওতায় পাইলট প্রকল্পে ল্যাপটপ ও গ্রামীণ তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া হবে গ্রামীণ অক্ষরজ্ঞানহীন নারী ও কিশোরীদের৷ ইউনেস্কোর আইসিটিভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ 'নারী ও নকশা' সিডি ও বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ তথ্য জানান৷ এই শিক্ষা উপকরণের আধেয় (কনটেন্ট) তৈরি করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ডি.নেট (ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ নেটওয়ার্ক)৷

গত ৩১ আগস্ট ২০০৮ সকাল ১০টায় ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কো ঢাকার পরিচালক ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি মালামা মেলেসিয়া৷ বিশেষ অতিথি ছিলেন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের টিম লিডার মোহাম্মদ আলী৷ অনুষ্ঠানে এ শিক্ষা উপকরণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ডি.নেট এর গবেষক মোসতান জিদা আল নূর৷

ইউনেস্কো ঢাকার পরিচালক ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি মালামা মেলেসিয়া তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা বিস্তারে ইউনেস্কো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে৷ বরাবরের মত আগামীতেও আমরা বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে কাজ করতে চাই৷ ইউনেস্কোর এই কর্মকান্ডের নতুন ধারা আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ 'নারী ও নকশা'৷ মেলেসিয়া বলেন, বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলে ইউনেস্কো দীর্ঘদিন গবেষণা করার পর সেখানকার মানুষের জীবনের সত্যিকার কাহিনী, তাদের জীবনযাত্রা, তাদের ব্যবহারকৃত আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করে এই উপকরণটি তৈরি করেছে৷ এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক কাজের সাথে জড়িত অক্ষরজ্ঞানহীন নারী ও কিশোরীদের শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে৷

এই সিডির সহকারী সম্পাদক এসএম আশরাফ আবির এর পরিচিতি তুলে ধরার সময় জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর ও শেরপুরসহ আরও কয়েকটি জেলার গ্রাম ও শহরের অধিকাংশ মহিলা সূচীকর্মে পারদর্শী৷ সুঁই-সুতার মাধ্যমে কাপড়ের উপরে তাঁরা ফুটিয়ে তোলেন নিখুঁত নকশা৷ দারিদ্রের কারণে অক্ষর-জ্ঞানশূন্য হয়েও সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতায় এরা ব্যাপক অবদান রাখছেন৷ এই অঞ্চলের প্রায় ৪০টি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র৷

 

launching_program_of_nari_o_noksha.jpg 

আশরাফ আবির জানান, এখানে প্রতিটি গ্রামেই একাধিক মহিলা প্রতিনিধি আছেন৷ নিজেরা সেলাইয়ের কাজ করার পাশাপাশি এই প্রতিনিধিরা এলাকার অন্য মহিলাদের করা নকশার কাজগুলো শহরের শোরুমে নিয়ে আসেন এবং সেখান থেকে আবার সবার জন্য নতুন কাজের অর্ডার নিয়ে যান গ্রামে৷ এই শোরুমগুলোর মালিকও অধিকাংশই মহিলা৷ এভাবেই চলছে অর্থনৈতিকক্ষেত্রে এই এলাকার মেয়েদের সক্রিয় অংশগ্রহণ৷ যেহেতু দারিদ্রের কারণে এদের একটি বড় অংশ অক্ষর-জ্ঞানবঞ্চিত, তাই এদেরকে অক্ষর-জ্ঞানসম্পন্ন করে তোলার জন্য তাদেরই কাজের সাথে সম্পর্ক রেখে "নারী ও নকশা" বইটি তৈরী করা হয়েছে৷

নারী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই সিডির সাথে একটি বই সংস্করণও তৈরী করা হয়েছে৷ লেখা শেখানোর জন্য সঙ্গে রাখা হয়েছে 'আমি লিখতে পারি' নামের আর একটি লেখার ম্যানুয়াল৷ সিডির প্রতিটি অধ্যায়ে গল্প ও ছবির মাধ্যমে এসব নারীর দৈনন্দিন কাজ, জীবনযাপন, সমস্যা, সংগ্রাম এবং অর্থনৈতিকক্ষেত্রে এদের অবদান ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ আর একারণেই এই উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন সহজে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারবেন৷ কম্পিউটারকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাথেও তারা পরিচিত হবেন৷

 
< আগে   পরে >
      
bnr.png