Skip to content
Default screen resolution  Wide screen resolution  Increase font size  Decrease font size  Default font size 
অবস্থান:    প্রথম পাতা arrow জীয়ন সংবাদ arrow সেচের অপচয় কমালে বছরে হাজার কোটি টাক
সেচের অপচয় কমালে বছরে হাজার কোটি টাক মুদ্রণ ইমেল
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আড়ুয়াকান্দী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বোরো মৌসুমে ৫০ থেকে ৬০ দিন সেচ দেন। এক মৌসুমে প্রতি একর জমিতে সেচের জন্য তাঁর ডিজেল খরচ এবং নলকূপ ভাড়া বাবদ ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা।
ওই ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, এলাকাটি একটু উঁচু। কিন্তু এখানে কৃষকেরা জমিতে যে পরিমাণ সেচ দেয়, তার অর্ধেকেরও কম সেচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। কিন্তু কৃষকেরা জমিতে বেশি বেশি পানি দেওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে পানির অপচয় হচ্ছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, কৃষকেরা প্রয়োজনের দ্বিগুণেরও বেশি পানি ব্যবহার করছে। এ কারণেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সব ক্ষেতে সমান পানি লাগে না। কৃষকেরা এ বিষয়ে সচেতন নয়।

এ চিত্র শুধু ঝিনাইদহের নয়, পুরো বাংলাদেশের। সচেতনতার অভাবে কৃষক জমিতে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি পানি ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমিতে অপরিকল্পিত সেচ শুধু ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকেই নামিয়ে দিচ্ছে না, এর ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হচ্ছে দেশ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু বোরো মৌসুমেই অপরিকল্পিত সেচের কারণে প্রতিবছর সারা দেশে নয় হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সচেতনতার অভাবে কৃষকেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেচ দেওয়ায় জমিতে দেওয়া সারও পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বোরো মৌসুমে এক একর জমিতে অতিরিক্ত সেচ বাবদ বাড়তি খরচ হয় দেড় হাজার টাকা, সার অপচয় হয় ৮০০ টাকার আর ফসল উৎপাদনে ক্ষতি হয় ১০ হাজার ৮০০ টাকার। এ হিসাবে শুধু অতিরিক্ত পানি দেওয়ার কারণে বোরো মৌসুমে এক একর জমিতে একজন কৃষকের মোট ক্ষতি হচ্ছে ১৩ হাজার ১০০ টাকা।
বর্তমানে দেশে প্রতিবছর প্রায় তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে তিন দশমিক ৬৬ টন বোরো এবং দুই টনের কিছু বেশি আমন হয়। তবে সঠিক পন্থায় চাষ করা হলে প্রতি হেক্টরে বোরোর উৎপাদন ছয় টন এবং আমন পাঁচ টন পর্যন্ত হতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। বিএডিসির সহকারী প্রধান প্রকৌশলী ইফতেখারুল আলম দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এ গবেষণা চালিয়ে প্রমাণ করেছেন, শুধু জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সেচ বন্ধ করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ইফতেখারুল আলম বলেন, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি দেওয়ায় জমিতে ব্যবহার করা সার মাটির গভীরে চলে যায়। এর ফলে ধানগাছ ওই সার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি আহরণ করতে পারে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়।
প্রকৌশলী ইফতেখার জাপানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে প্রতি হেক্টর জমিতে ছয় টন ধান উৎপাদন হচ্ছে। তাহলে বাংলাদেশে কেন সম্ভব নয়? কৃষকের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ এবং কৃষককে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে অচিরেই বাংলাদেশ চাল রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে। শুধু জমিতে পানির পরিমিত ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব, অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির অবনমন ঠেকাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. উত্তম কুমার দেব বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ‘অল্টারনেট ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই সিস্টেম’ নামে একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এ প্রযুক্তিতে জমিতে লাগাতার পানি জমিয়ে রাখার পরিবর্তে শুধু যখন প্রয়োজন তখন পানি ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন পানির অপচয় রোধ হয়, অন্যদিকে ধানের ফলনও বাড়বে।
গোলাম কিবরিয়া
ভূগর্ভে পানির সংকট -৩
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন ঝিনাইদহের নিজস্ব প্রতিবেদক আজাদ রহমান)
দৈনিক প্রথম আলো, রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

 

 
< আগে   পরে >
      
bnr.png