গ্যাস সিলিন্ডার কেন বিস্ফোরিত হয়?
ঘনীভূত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চালিত কিছু গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। বিষয়টি উদ্বেগের, কারণ এখন প্রচুর বাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও টেম্পো গ্যাসে চলে। সুতরাং এই গ্যাস সিলিন্ডার কতটা বিপজ্জনক সে প্রশ্নটি বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে। কোনো কারণে গাড়িতে আগুন লাগলেই যে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আগুন যদি সরাসরি সিলিন্ডারের ভেতরের গ্যাসের সংস্পর্শে যেতে পারে, অথবা খুব বেশি তাপ যদি সরাসরি সিলিন্ডারকে তপ্ত করে তোলে তাহলেই কেবল দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর প্রতিকারের জন্য মানসম্পন্ন সিলিন্ডারে একটি ভালভে বিশেষ ব্যবস্থা থাকে, যা আগুন বা উচ্চ তাপে যেন দুর্ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করে। অত্যন্ত উচ্চ চাপে সিলিন্ডারের ভেতর গ্যাস ভরা হয়। এই চাপ প্রায় তিন হাজার পিএসআই (প্রেসার পার স্কয়ার ইঞ্চ)। তাই গ্যাস সিলিন্ডার বেশ পুরু ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়, যার কার্যকর ক্ষমতাও তিন হাজার পিএসআই, যা কেবল ছয় হাজার ৬০০ পিএসআইয়েরও বেশি চাপে বিস্ফোরিত হতে পারে। সুতরাং এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক থাকলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আশঙ্কা কমে যায়। যেসব কোম্পানি অকটেন বা পেট্রলের পরিবর্তে গ্যাসে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা করে, তাদের প্রধান দায়িত্ব এটা দেখা যে সিলিন্ডার যেন উপযুক্ত মানসম্পন্ন হয়। যেহেতু এসব গাড়ি তৈরি করা হয়েছে পেট্রলে চালানোর জন্য, তাই সেখানে সিলিন্ডারের কোনো বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অর্থাৎ কৃত্রিম উপায়ে এসব গাড়িকে গ্যাসে রূপান্তরিত করা হয়। যেকোনো কৃত্রিম ব্যবস্থায় কিছু ঝুঁকি থাকে। গ্যাসচালিত গাড়িতেও সেই ঝুঁকি সম্পর্কে সব সময় সতর্ক থাকা দরকার। প্রথম গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপনের পর চার-পাঁচ বছর অন্তর নিবিড় পরীক্ষা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। অনেক সময় চালক অসৎ উদ্দেশ্যে নতুন সিলিন্ডার বিক্রি করে কম দামে পুরোনো ও জরাজীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা থাকে। কোনো অবস্থাতেই জরাজীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করা উচিত নয়। আবার গ্যাস সংযোজনের পাইপগুলো যদি পুরোনো হয়ে গ্যাস লিক করে তাহলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এসব ত্রুটি না থাকলে সাধারণত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ার কথা নয়। সুতরাং সতর্কতাই এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ রোধের নির্ভরযোগ্য উপায়। 
আব্দুল কাইয়ুম 
প্রথম আলো, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৮, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন, ছুটির দিনে